দেশজুড়ে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের উন্মাদনা বাড়লেও মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বাড়ছে, তবুও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। এমনকি একাধিক সিম ব্যবহারের পরও মোবাইল সিমের সংযোগের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি পর্যন্ত গত সাত মাসে প্রায় ৯৪ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক এবং ১ কোটি ৩২ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কমেছে।
বিটিআরসি’র ৬ মার্চ প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাসে মুঠোফোন গ্রাহক ছিল ১৯ কোটি ৬০ লাখ, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৬ লাখে। একই সময়ে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল প্রায় ১২ কোটি ৯২ লাখ।
বিটিআরসি আরও জানায়, ৯০ দিনের মধ্যে একবার মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে মুঠোফোন গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং জানুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখে।
মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড মিলিয়ে দেশে বর্তমানে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি, যা ২০২৩ সালের জুনে ছিল ১৪ কোটি ২২ লাখ। এ সময়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক কিছুটা বাড়ে, যা এখন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ।
দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আইএসপি ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদান করছে, আর মোবাইল সেবা প্রদান করছে তিনটি মোবাইল অপারেটর এবং একটি রাষ্ট্রীয় অপারেটর।
গ্রামীণফোনের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সক্রিয় ডেটা ব্যবহারকারী ছিল ৪ কোটি ৯৩ লাখ, যা তৃতীয় প্রান্তিকে কমে ৪ কোটি ৮০ লাখে দাঁড়িয়েছে। তাদের গ্রাহকরা গড়ে ১৩ টাকা কম ব্যয় করছেন।
অন্যদিকে, রবির আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের ফোরজি ডেটা ব্যবহারকারী ছিল ৩ কোটি ৬৩ লাখ, যা আগের প্রান্তিক থেকে কিছুটা কমে ৩ কোটি ৭৬ লাখে পৌঁছেছে। বাংলালিংকের বার্ষিক আয় ১৪.৪% বেড়ে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।