মঙ্গলের ধূলাবালি নিয়ে গবেষণা বা অনুসন্ধানের বিষয়টি নভোচারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। মঙ্গলকে দূর থেকে সুন্দর দেখায়, তবে বিষাক্ত ধূলার উপস্থিতির কারণে গ্রহটি অনুসন্ধানের জন্য নভোচারীদের সেখানে পাঠানোর বিষয়টি ধারণার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান। এ নিয়ে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে নতুন এক গবেষণায়। নভোচারীদের কী ধরনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টুলের প্রয়োজন হতে পারে তা নিয়েও এতে আলোচনা করেছেন গবেষকরা। চাঁদে অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদের ধূলিকণার সংস্পর্শে এসেছিলেন নভোচারীরা, যা তাদের ভুগিয়েছিল। এ সব ধূলিকণা তাদের স্পেসস্যুটে আটকে যাওয়ার পাশাপাশি চাঁদের বিভিন্ন ল্যান্ডারেও ঢুকে যেত। ফলে সর্দি, কাশি, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও গলা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছিল নভোচারীদের। গবেষণায় উঠে এসেছে, এ সব ধূলিকণার সংস্পর্শে দীর্ঘসময় ধরে থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য প্রভাব ফেলে নভোচারীদের মধ্যে। মঙ্গলের ধূলিকণা চাঁদের মতো ধারালো ও ঘর্ষণকারী না হলেও এগুলোর সবকিছুতে লেগে থাকার প্রবণতা একই রকম। মানুষের চুলের প্রস্থের প্রায় চার শতাংশও পরিমাণের এ সব ধারালো কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে, যা দেহের রক্ত প্রবাহেও মিশে যেতে পারে। এসব ধূলিকণায় থাকা বিষাক্ত পদার্থের মধ্যে রয়েছে সিলিকা, জিপসাম ও বিভিন্ন ধাতু। গবেষকরা বলছেন, ‘মঙ্গল গ্রহ অনুন্ধানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখান থেকে দ্রুত সময়ে পৃথিবীতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আমাদের কাছে নেই।’ ৪০ মিনিটের জন্য নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেরি হলেও তা তাদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার তৈরি করবে।
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, নভোচারীদের এ সব ধূলিকণার সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে এয়ার ফিল্টার, সেলফ-ক্লিনিং স্পেস স্যুট ও ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বিকর্ষণের মতো বিভিন্ন ডিভাইসের। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জিওহেলথ’-এ।