সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত তরুণ রাসেল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ বর্ণমালার আলোর পাঠ উন্মোচন করা হয়। শুভজনের প্রকাশনায় পাঠক নন্দিত এ বইটির পরিবেশক ছিল মেঘনা পাবলিকেশন্স এবং সপ্তবর্ণ প্রকাশনী। বাংলা বর্ণমালার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে, তাদের মধ্যে শুভ বোধের জাগরণ তুলতে এবং বর্ণ দিয়ে শব্দ গঠন ও বাংলা বর্ণ লিপির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘বর্ণমালার আলো’ একটি আদর্শ গ্রন্থ। বইটি প্রসঙ্গে লেখক বলেন- ‘বর্ণমালার আলো’ বইটি পাঠের মাধ্যমে শিশুমনে সুনির্মল আলোড়নের ঢেউ আন্দোলিত হবে। শিশুরা আলোকিত মানুষ হওয়ার দীক্ষা পাবে। শুদ্ধ মননের অনুপ্রেরণা লাভ করবে। এই বইয়ে বাংলা বর্ণলিপির প্রতিটি বর্ণ-অক্ষর দিয়ে শব্দ গঠনে শুরু হয়েছে এক একটি ছড়া-কবিতা। যার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি অক্ষর বা বর্ণকে শিশুরা নিজের মতো করে তাদের স্বপ্নের রঙে রঙিন করে আঁকতে পারে এ জন্য প্রত্যেকটি অক্ষরের রেখাচিত্র দেয়া হয়েছে। পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলা বর্ণলিপিতে ঐ বর্ণের অবস্থান এবং ধরণ সম্পর্কে। আমরা জানি, আমাদের বাংলা ভাষার আছে দারুণ এক সংগ্রামের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে ভাষার অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার কথা তো আমাদের সবার জানা। ভাষার জন্য এমন সংগ্রাম করবার আর দ্বিতীয় কোনো নজির পৃথিবীতে নেই। যে ভাষার রয়েছে এমন সংগ্রামের ইতিহাস, আছে এমন সমৃদ্ধ সাহিত্যভাণ্ডার, সেই ভাষা আমাদের, আমরা সবাই গর্বিত বাঙালি।