‘সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ সুশিক্ষিত জাতি দেশের অমূল্য সম্পদ। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। কারণ মানুষকে সৃষ্টিকর্তা একজন জ্ঞানী ও নিজের খলিফা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। উম্মতে মুহাম্মদির শিক্ষাব্যবস্থা সূচনা হয় সৃষ্টিকর্তার বাণী- ‘পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন (সুরা : আলাক : ১) এর দ্বারা। মসজিদে নববিতে অবস্থিত ‘সুফফা’ হলো ইসলামের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র। রাসুল (সা.) ছিলেন প্রথম শিক্ষক আর সাহাবিগণ প্রথম ছাত্র। এখান থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ইতিহাস শুরু হয়। ইসলামে জ্ঞান অর্জন করাকে ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিস থেকে এমনটাই জানা যায়। তা ছাড়া ঈমানের পরে ইলমই হলো আল্লাহর নিকট মর্যাদা বৃদ্ধির প্রথম উপায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইলম বা জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা আল্লাহ বাড়িয়ে দেবেন। (সুরা : মুজাদালা : ১১) ইলম শিক্ষা করার জন্য পথ চলা, হাঁটা, কষ্ট করা ইত্যাদিও ইবাদত। এগুলোর মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বেশি।
ইসলামি শিক্ষার প্রসার : খোলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফাদের যুগে ইসলামি শিক্ষার ব্যাপক উন্নতি ঘটে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা পদ্ধতিগত পরিপূর্ণতা লাভ করে। মুসলিম শাসিত ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসকগণ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তারা ইসলামি শিক্ষার বুনিয়াদি কাঠামো দাঁড় করিয়ে ছিলেন। শুধু রাজধানী দিল্লিতেই ১ হাজার মাদ্রাসা ছিল। প্রফেসর ম্যাক্স মুলারের মতে ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে শুধু বাংলাতেই ৮০ হাজার মাদ্রাসা ছিল।
ক্যাপ্টেন হেমিলটনের মতে, সিন্ধুর প্রসিদ্ধ ঠাট্টানগরীতে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং শিল্পকলার চারশত প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পতন শুরু হয়। সূচনা হয় ইংরেজ শাসন। ইংরেজগণ তাদের শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার জন্য নীতি প্রয়োগ করে। মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে মুসলমানদের মাঝে জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করা। ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকেলের সুপারিশকৃত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দুই বিপরীতমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। তাদের এ নীতি সফলতার সাথে বাস্তবায়ন হয়েছে। ব্রিটিশ আমাদের এ দেশ থেকে চলে গেছে, সেই ১৯৪৭ সালে ঠিকই; কিন্তু তাদের সৃষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা আজও অক্ষুণ্ণ আছে। এ দীর্ঘ সময়ে পাঠ্যসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও শিক্ষানীতির মূল কাঠামো আজও অপরিবর্তিত।
আল্লামা ইকবাল বলেন, রুহের উন্নয়ন ঘটানোর প্রক্রিয়ার নামই শিক্ষা। শিক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শের কাজ হলো পরিপূর্ণ মানবসত্তার লালন করে এমনভাবে গড়ে তোলা, যার কর্মসূচির আওতায় মানুষ তার দেহ, বুদ্ধিবৃত্তি ও আত্মার উৎকর্ষতা এবং আত্মিক জীবন ও পার্থিব জীবনের প্রতিটি কার্যকলাপের কোনটিই পরিত্যাগ করে না। কোন একটির প্রতি অবহেলা বা মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকেও পড়ে না। শিক্ষা হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে বিকশিত মুক্ত সচেতন মানবসত্তার সাথে সৃষ্টিকর্তার উন্নত যোগসূত্র রচনার একটি চিরন্তন প্রক্রিয়া, শিক্ষার উদ্দেশ্যই নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতিকে সঠিক জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়ার জন্য যেসব নবী রাসুলকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল, তাদের কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা আল্লাহর আয়াত বা নিদর্শন বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সম্পর্কিত বাণী মানুষকে পড়ে শুনান। আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেন আর শিক্ষা দেন জীবন যাপনের কৌশল। অথচ এর পূর্বে তারা সুস্পষ্ট গুমরাহিতে নিমজ্জিত ছিল। (সুরা : জুমআ : ২)।
ইসলামি যুগের শুরুতে, মধ্যযুগে এবং অতি সাম্প্রতিককালেও ঔপনিবেশিক যুগের আগ পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ছিল কোরআন, হাদিস, সিরাত ও ফিকাহর ওপর। এর সাথে সাথে সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, যাবতীয় সাইন্সেরও গুরুত্ব ছিল। ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার মতো বলিষ্ঠ বক্তব্য পৃথিবীর কোনো ধর্মগ্রন্থে বা মনীষীর বাণীতে পাওয়া যাবে না। কোরআনের প্রথম শব্দই শিক্ষা সংক্রান্ত।
আল্লাহ পাক বলেন, পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাটবাঁধা রক্ত থেকে। পড়ুন আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (সূরা : আলাক : ১-৫) রাসুল (সা.) হেরাগুহায় অহিপ্রাপ্ত হয়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ফিরে এসে তাঁর সহধর্মিণী খাদিজা (রা.)-এর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। রাসুল (সা.) নিজেই ঘোষণা করেন, আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি (ইবনু মাজাহ)। অন্য হাদিসে এসেছে, জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। (মুসলিম )।
নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে রাসুল (সা.) ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি ৭০ জনের মুক্তিপণ হিসেবে ঘোষণা করেন, যারা লেখাপড়া জানেন তারা ১০ জন নিরক্ষর ব্যক্তিকে অক্ষর জ্ঞান দান করে মুক্তি পাবেন। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ‘দারুল আরকাম’। বিশিষ্ট সাহাবি আরকাম (রা.) ছিলেন এই ঘরের মালিক। মুসলমান হওয়ার পর তিনি ইসলামের জন্য এই ঘরটি ওয়াক্ফ করে দেন।
হিজরতের আগে মদিনার মুসলমানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাসুল (সা.) মুস‘আব ইবনে উমায়ের (রা.)-কে শিক্ষক হিসেবে মদিনায় প্রেরণ করেন। তিনি আবু উসামা ইবেন যুরারার বাড়িতে অবস্থান করে কোরআন শিক্ষা দিতেন। সেটিই মদিনার প্রথম শিক্ষালয় হিসেবে পরিগণিত হয়। হিজরতের সময় রাসুল (সা.)-এর বাহন উটনী মসজিদে নববির স্থানে থেমে যায়। তখন তিনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন। রাসুল (সা.) সেই বাড়িতে অবস্থান করে প্রায় ৮ মাস শিক্ষাক্রম চালিয়ে যান। মসজিদে নববির উত্তর পার্শ্বে খেজুর পাতায় ছাউনি দিয়ে একটি আবাসস্থল নির্মাণ করা হয়। ইসলামের ইতিহাসে তা ‘সুফফাহ’ নামে পরিচিত। রাসুল (সা.)-এর শিক্ষাব্যবস্থা ছিল একীভূত শিক্ষাব্যবস্থা। সেখানে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সকলেই জ্ঞান লাভের সমান সুযোগ পেত।
নারীশিক্ষার গুরুত্ব : রাসুল (সা.) কন্যা সন্তানদের শিক্ষাদানের ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ প্রদান করেছেন। রাসুল (সা.) মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি তিনটি কন্যাসন্তানকে লালন-পালন করবে, তাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দেবে তাদের বিয়ে দেবে এবং তাদের সাথে ভালো আচরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ)। রাসুল (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) শিক্ষা-দীক্ষায় বিরাট অবদান রাখেন। তিনি হাদিস, ফিকাহশাস্ত্রসহ সকল বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তার থেকে ২২১০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
কোরআন পাঠকের মর্যাদা : শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে কারী তথা বিশুদ্ধভাবে কোরআন পাঠকারীর মর্যাদা সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, কোরআনের কারীকে বলা হবে পড়ুন এবং সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকুন এবং সুমধুর কণ্ঠে পড়তে থাকুন; যেভাবে তারতীলের সাথে দুনিয়াতে পড়েছেন। নিশ্চয় আপনার গন্তব্য হবে সেখানে, যেখানে পড়া শেষ হবে (তিরমিজি, আবু দাউদ)। আলি ইবনে আবু তালিব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে কোরআন পড়ল অতঃপর মুখস্থ করল এবং হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম মেনে চলল। আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তাকে তার পরিবারস্থ এমন ১০ জনকে সুপারিশ করার সুযোগ দেবেন যাদের প্রত্যেকের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও বায়হাকি)। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, আলিম ও আবেদের পুনরুত্থান হবে। অতঃপর আবেদকে বলা হবে তুমি জান্নাতে যাও। আর আলেমকে বলা হবে তুমি দাঁড়াও, যাতে তুমি যে শিক্ষা দিয়েছ, সে কারণে সুপারিশ করতে পার। (বায়হাকি)।
ভারতবর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষার সূচনা : মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় অবদান হলো সৎ ও আদর্শ ব্যক্তি গঠন। ভারতবর্ষে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদণ্ডদৌলা পরাজয়ের পর ইসলাম ও মুসলমানদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য ১৮৬৬ সালের ৩০ মে মাওলান কাশেম নানুতবি (রহ.) প্রতিষ্ঠা করেন ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ মাদ্রাসা। স্যার সৈয়দ আমহদ খান স্থাপন করেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ১৭৮১ সালে মুসলমানদের চাপের মুখে মুসলমান ছাত্রদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা স্বরূপ কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার গোড়াপত্তন হয়। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা দুই ভাগে হয়ে একভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং তার নাম হয় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, যা বকশি বাজারে প্রতিষ্ঠিত এবং তার শাখা-প্রশাখা সারা দেশে বিস্তৃত।
মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান : মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত লোকেরা আরবি তথা ধর্মীয় শিক্ষার সাথে জাগতিক শিক্ষারও যোগ্যতা অর্জন করেন। তারা দেশ ও জাতির তাহজিব-তামাদ্দুন, কৃষ্টি-সভ্যতা, দীন-ঈমান ইত্যাদি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে আসছেন। কোনো অনৈতিক কাজ যেমন চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ব্যভিচার, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক ইত্যাদির সাথে মাদ্রাসা ছাত্রদের সংশ্লিষ্টতা এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকুরি করার পাশাপাশি মসজিদে জুমার খুতবা, ওয়াজ মাহফিল, সভা-সেমিনার ও ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সৎভাবে জীবনযাপন করার উপদেশ দিতে থাকেন, যা সৎ ও আদর্শ জাতি গঠনে বিরাট ভূমিকা পালন করছে। তাদের উপদেশ শুনে সাধারণ মানুষ সৎভাবে জীবনযাপন করার অনুপ্রেরণা পায়। তাছাড়া সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলো অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান ও অসহায় এতিম শিশুদের বিত্তবানদের সহযোগিতায় প্রতিপালন এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সৎ ও আদর্শ জাতি গঠনে মাদ্রাসা শিক্ষার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
রাসুল (সা.) শিক্ষার আলো দিয়ে একটি বর্বর ও অশিক্ষিত জাতিকে সুশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও সর্বোত্তম জাতিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হন। আমাদের উচিত মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন ঘটিয়ে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে আসা, যাতে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ তৈরির শিক্ষার সাথে জাগতিক শিক্ষাও সমন্বিত হয় এবং আমাদের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার সুসমন্বয় ঘটে। অন্যদিকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় ইসলামি আদর্শ ও মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে, যাতে জাগতিক শিক্ষার সাথে ইসলামি ধ্যান-ধারণা, চরিত্র ও মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে আদর্শ ও ধর্মপ্রাণ নাগরিক সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই দিকটি অবশ্যই শিক্ষাব্যবস্থায় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।