ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

এসপির প্রত্যাহার দাবি

এসপির প্রত্যাহার দাবি

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় অটোরিকশা আটকে দম্পতিকে হয়রানির অভিযোগে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখা।

সেইসঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত না করে ছাত্র প্রতিনিধিকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রত্যাহার দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা। গত মঙ্গলবার রাতে সংগঠনের জেলা শাখার যুগ্ম দপ্তর সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ ও এসপির প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসপির ‘ফ্যাসিস্ট আচরণের’ প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এই ছাত্রনেতারা। গত মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেৃতত্বদানকারী রাজিবপুর উপজেলার ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। মেহেদী ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে, মেয়ের জামাইসহ কয়েকজনকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয় মামলায়। পরে ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

রাজিবপুরের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক রবিউল ইসলাম রবিন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঈদের রাতে অটোরিকশায় কয়েকজন যুবক ও দুজন মেয়ে যাচ্ছিলেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী। শুধুমাত্র মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমনটা করেছেন তিনি। সেখানে বিবাহিত দম্পতি থাকার বিষয়টি জানা ছিল না।

কিন্তু এ ঘটনায় ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে অটোরিকশায় থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলমের ছেলে শিহাবের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিষয়টিকে নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন এসপি ও জেলা শিক্ষা অফিসার।

লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র প্রতিনিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তারের পেছনে এসপি মাহফুজুর রহমানের ফ্যাসিস্ট আচরণ দায়ী।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, মিথ্য অভিযোগে মামলা দায়ের করে ছাত্র প্রতিনিধির চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। মাত্র ২৮ মিনিটের ব্যবধানে মামলা নথিভুক্ত করে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুততার সঙ্গে চালান দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ন্যূনতম তদন্ত করেনি পুলিশ। মূলত পুলিশ সুপারের অতি আগ্রহে পুলিশ তড়িৎকর্মা হয়ে পড়েছিল।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিপ্লবের পক্ষের শক্তিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসপি কোন অপশক্তির ইশারায় এমন ফ্যাসিস্ট আচরণ করছেন, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র জান্নাতুল তহুরা তন্নীর ওপর হামলা করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টো এসপি মাহফুজুর রহমান হামলাকারীদের সঙ্গে আপসের পরামর্শ দেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্য জ্যোতি বলেন, ‘এসপি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গোপনে দ্রুততার সঙ্গে মামলা নথিভুক্ত করে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এটা এক ধরনের প্রতারণা। সাধারণ মানুষ মামলা করতে গেলে পুলিশের কাছে হয়রানির শিকার হন। অথচ শিক্ষা অফিসারের পরিবারের সদস্য হওয়ায় সত্যতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত গতিতে পুলিশ তৎপর হয়ে গেল। এটা জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।

জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত