ভারতের মণিপুরে ফের সহিংসতায় পুলিশসহ নিহত ৪

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৩, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

ভারতের জাতিগত সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন সহিংসতার ঘটনায় এক পুলিশসহ অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। রাজ্যটির বিষ্ণুপুর ও চূড়াচাঁদপুর জেলার মধ্যবর্তী এলাকায় পৃথক সহিংসতার এসব ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন আর শনিবার সকালে অপর তিনজনের মৃত্যু হয়। গত দুই মাস ধরে এই দুই জেলার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকাগুলোতে একের পর এক হত্যা, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, বিষ্ণুপুর জেলার কংভাই এলাকায় বিরোধপূর্ণ দুই সম্প্রদায়ের অবস্থান কাছাকাছি হওয়ায় চলতি সহিংসতার শুরু থেকেই এলাকাটি স্পর্শকাতর হয়ে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী দুই সম্প্রদায়ের অবস্থানের মাঝে ‘বাফার জোন’ স্থাপন করে সেখানে বাহিনী মোতায়েন করে রেখেছে। তারপরও উভয়পক্ষের ‘দুর্বৃত্তরা’ উপত্যকা এলাকার গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকাগুলো দিয়ে প্রবেশ করে পরস্পরের এলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এক ঊধ্র্বতন কর্মকর্তা বলেন, “শুক্রবার রাত থেকে উভয়পক্ষের উচ্ছৃঙ্খল লোকজন এ রকম প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এই লোকজন বাইরে থেকে এখানে এসেছে এবং স্থানীয়রা তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা গ্রাহ্য করছে না। নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে সতর্কতার সঙ্গে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে এবং যেকোনো বাড়িতে আগুন দেওয়া থেকে তাদের বিরত রাখার চেষ্টা করছে। “তারপরও কংভাই, সোংদো ও আওয়াং লেখাই গ্রামে উভয়পক্ষের দুর্বৃত্তরা দূর থেকেই পরস্পরের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং আরও কয়েকজন আহত হন।” ভোরের দিকে গোলাগুলি থেমে গেলেও এলাকাটির উপত্যাকার দিকের পাশের উচ্ছৃঙ্খল জনতা ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে চলছে বলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গতকাল সকালে দুইপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি হলেও পরিস্থিতি এখন নিরপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছে তারা। ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ও পরিস্থিতি থমথমে হয়ে আছে। গত শুক্রবার রাতে মণিপুরের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কিছু এলাকার পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে ছিল সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে রাজ্যটির অধিকাংশ জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে তারা।