বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সহযোগিতায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসাপত্রে চিকিৎসকদের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম। সারজিস জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন ৮২৬ জন। এর মধ্যে ৬২৮টি পরিবারকে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। বাকি রয়েছে ১৯৮টি শহীদ পরিবার। এ পর্যন্ত ব্যাংকে জমা থাকা ১০৯ কোটি ২০ লাখ ২৩ হাজার টাকার মধ্যে ৪৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬১ কোটি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
আন্দোলনে আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৩০৬ জন। তবে সহযোগিতা পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬০১ জন। সরকার থেকে প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে। আহতদের সহযোগিতায় চিকিৎসাপত্রে সত্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারণ কিছু জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সারজিস আলম বলেন, শহীদ পরিবারদের আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ মাসেই শহীদ পরিবারগুলোকে ৩০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া, প্রতিটি বিভাগে একটি করে অফিস স্থাপন করা হবে, যাতে নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোকে ঢাকায় আসতে না হয়। আহতদের মধ্যে অনেকেই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এমন অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে শহীদ পরিবার বা আহত কেউ অফিসে এসে খারাপ আচরণের শিকার হলে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।