ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

কোরআনের প্রভাব

উবাইদুল্লাহ তারানগরী
কোরআনের প্রভাব

রমজানের সঙ্গে কোরআনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ মাসে পুণ্যের পাহাড় অর্জনে কোরআন পাঠের বিকল্প নেই। কোরআন পাঠে রয়েছে বেশ প্রভাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআন তেলাওয়াত শোনার এবং পাঠ করার সময় গভীর আবেগাপ্লুত হতেন। তার জীবনে এমন বহু ঘটনা রয়েছে, যখন কোরআনের আয়াত শুনে তিনি কেঁদেছেন, চিন্তামগ্ন হয়েছেন। নবীজি (সা.) ও সাহাবিরা কোরআনের প্রতি এতটাই সংবেদনশীল ছিলেন, এর প্রতিটি আয়াত তাদের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলত। আমাদেরও তাদের মতো কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার। অনেক সাহাবি, তাবেয়ি, ইমাম ও মনীষীর জীবনীতে পাওয়া যায়, তারা কোরআন পড়ে পড়ে কেঁদে কেঁদে রাত কাটিয়েছেন।

তাহাজ্জুদে দীর্ঘ তেলাওয়াত : হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বলেন, আমি এক রাতে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে তাহাজ্জুদ নামাজে অংশ নিয়েছিলাম। তিনি সুরা বাকারা পড়তে শুরু করলেন। ভাবলাম, তিনি ১০০ আয়াত পড়ে রুকুতে যাবেন, কিন্তু তিনি পড়তে থাকলেন। এরপর সুরা আলে ইমরান পড়লেন। তা শেষ করলেন। এরপর সুরা নিসা শুরু করলেন। তাও সম্পূর্ণ করলেন।

তিনি ধীরে ধীরে পড়ছিলেন। যখন কোনো আয়াতে প্রশংসার কথা আসত, তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন। যখন কোনো দোয়ার আয়াত আসত, তিনি দোয়া করতেন। যখন কোনো শাস্তির আয়াত আসত, তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (মুসলিম : ৭৭২)।

মুশরিকদের আবেগপ্রবণ হওয়া : খুব আবেগময় কণ্ঠে আবু বকর (রা.) কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তার তেলাওয়াত শুনে মক্কার মুশরিকরাও কেঁদে ফেলত। একবার কোরাইশ নেতারা অভিযোগ করল, আবু বকর (রা.) তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মনে নরম ভাব আনছে। তাই তাকে কোরআন পড়া বন্ধ করতে বলা হলো। (বোখারি : ৩৯০৬)।

নবীজি (সা.)-এর কান্না : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, একদিন রাতে আমি নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি সুরা মায়িদার ১১৮ নম্বর আয়াত পড়লেন। যাতে বলা হয়েছে, ‘যদি তুমি তাদের শাস্তি দাও, তবে তারা তোমার দাস; আর যদি ক্ষমা কর, তবে নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ এরপর কাঁদতে থাকলেন। সারারাত এটি পড়তে থাকলেন। (মুসলিম : ১২৫)।

ওমর (রা.)-এর কান্না : একবার ওমর (রা.) নামাজের ইমামতি করছিলেন। তিনি সুরা ইউসুফের ৮৬ নম্বর আয়াত পড়লেন। যাতে বলা হয়েছে, ‘আমি আমার দুঃখ-দুর্দশার কথা শুধু আল্লাহর কাছেই বলি।’ এরপর তিনি এতটাই কাঁদতে লাগলেন, পেছনের কাতারে থাকা সাহাবিরাও তার কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৮৬৯১)।

সাহাবির তেলাওয়াতে আনন্দ : রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর তেলাওয়াত শুনে অভিভূত হয়েছেন। একবার নবীজি (সা.) আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর কোরআন তেলাওয়াত শুনলেন। তাকে বললেন, ‘তোমার কণ্ঠে দাউদ (আ.)-এর বাঁশির মতো মধুরতা আছে। আমি তোমার তেলাওয়াত শুনে আনন্দ পেয়েছি।’ (বোখারি : ৫০৪৮)।

তেলাওয়াত শুনে অশ্রুবর্ষণ : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) আমাকে বললেন, ‘আমাকে কোরআন শোনাও।’ বললাম, ‘আমি কি আপনাকে শোনাব, যখন কোরআন আপনার ওপর নাজিল হয়েছে?’ তিনি বললেন, ‘আমি অন্যের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করি।’ তারপর আমি সুরা নিসা তেলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন আমি সুরাটির ৪১ নম্বর আয়াতে পৌঁছালাম (যাতে বলা হয়েছে, ‘সেদিন কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য একজন সাক্ষী আনব। আর তোমাকে এদের জন্য সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব?), তখন নবীজি (সা.) আমাকে থামতে বললেন। আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখি, তার চোখের অশ্রু ঝরছে। (বোখারি : ৫০৪৯)।

লেখক : ইমাম ও খতিব, ছোট দেওড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, জয়দেবপুর, গাজীপুর।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত