ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

বিলুপ্তপ্রায় পাখি

হুমাইদুল্লাহ তাকরিম
বিলুপ্তপ্রায় পাখি

চারঘাট, বাঘা, পুঠিয়া, দুর্গাপুরসহ রাজশাহী জেলার গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি পাখি। ফলে এখন আর পাখির কিচিরমিচির ডাকে ঘুম ভাঙে না। গ্রামবাংলার ক্ষেত্রেও কথাটি শোনা যায়। গ্রামবাংলার প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে পাখি। দেশীয় পাখিরা গ্রামগঞ্জের ঝাউ-জঙ্গল, বাঁশ-ঝাড়ে বাস করলেও দ্রত জনবসতি গড়ে ওঠায় এ সব পাখিরা তাদের বাসস্থান পরিবর্তন করছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনের তাগিদেই এসব ঝাউ-জঙ্গল কেটে ফেলছে। ফলে হারিয়ে ফেলছে তাদের চিরাচরিত বাসস্থান। কিছুদিন আগেও মাঠ-ঘাট, খেতে-খামারে বিচিত্র পাখিদের বিচরণ ছিল। পাখিরা সে সময় ঝাঁকে ঝাঁকে এসে তৃষ্ণা মেটাত। খাদ্য অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকত। ফসলের মাঠে পাখি বসার দৃশ্য সচরাচর দেখা গেলেও এখন তা হারিয়ে যাচ্ছে।

পাখির পরিসংখ্যান : জানা যায়, বাংলাদেশে ৬৫০ প্রজাতির পাখি আছে। এর মধ্যে ৩০টি বর্তমানে বিলুপ্ত। ৬২০টি প্রজাতির মধ্যে ১৪৩টি প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে কালেভদ্রে দেখা যায়। বাকি ৪৭৭ প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায়। এই ৪৭৭ প্রজাতির মধ্যে ৩০১টি বাংলাদেশের ‘আবাসিক’ পাখি স্থায়ীভাবে এ দেশে বাস করে। বাকি ১৭৫টি বাংলাদেশের ‘পরিযায়ী’ পাখি খণ্ডকালের জন্য নিয়মিতভাবে এ দেশে থাকে। এই ১৭৬ প্রজাতির মধ্যে ১৬০টি শীতে এবং ৬টি গ্রীষ্মে বাংলাদেশে থাকে। বাকি ১০টি বসন্তে এ দেশে থাকে। যাদের ‘পরিযায়ী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

পাখি এখন ইতিহাস : অতীতে গ্রাম এলাকায় ব্যাপকহারে বক, শালিক, ঘুঘু, দোয়েল, বাবুই, টুনটুনি, চিল, পানকৌড়ি, ডাহুক, বালিহাঁস, কোকিল, কাকসহ বিভিন্ন পাখিদের দেখা যেত। বিশেষ করে, জাতীয় পাখি দোয়েল, ঘুঘু, বাওয়াই, শালিক, টুনটুনি, কাঠ-ঠোঁকরা, কোকিল, ডাহুক, ক্যাসমেচি, বাবুই, মাছরাঙা, বটর, টেইটেরা, গোমড়া ও প্যাচাসহ অনেক পাখিকে আর দেখা যায় না। শোনা যায় না এ সব পাখির ডাক। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত বসন্তে যে পাখি ‘বউ কথা কও’ বলে গ্রামের প্রতিটি মানুষকে মাতিয়ে তুলত, সেই পাখির দেখা আর পাওয়া যায় না। বর্তমান প্রজন্ম চেনে না এসব পাখি। এসব পাখির ডাকও শোনে না কোনোদিন। ফলে শিশু-কিশোরদের কাছে দিনদিন হয়ে যাচ্ছে এ সব পাখি ইতিহাস।

পাখি কমে যাওয়ার কারণ : অনুসন্ধানে জানা গেছে, খেতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেকাংশেই দায়ী। কৃষকরা এখন বিভিন্ন ফসলের খেতে সব সময় কীটনাশক প্রয়োগ করে। এতে করে পাখির খাদ্য ফড়িং, ফুতি, প্রজাপতি, মশা, লেদা পোকা, গোয়ালীসহ বিভিন্ন প্রকার কীটপতঙ্গ মরে যায় বা আক্রান্ত হয়। পাখিরাও দিনের পর দিন এ সব খেয়ে মারা যাচ্ছে। তাছাড়া পাখি শিকারীদের নিষ্ঠুরতা তো রয়েছেই। কখনও কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা ঝড়ে পাখির বাসা ভেঙে পাখিছানার মৃত্যু ঘটে। ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। পাখির বিলুপ্তি ঘটায় যেমন জীববৈচিত্রের সংকট বাড়ছে, তেমন আমরা হারিয়ে ফেলছি সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পাখির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই কেবল মানবজাতিই জীবের প্রতি দয়া, সহনশীলতা এবং সচেতনতাই রক্ষা করতে পারে পাখির স্বাভাবিক বেঁচে থাকা বংশবিস্তারের সুদৃঢ় ভবিষ্যত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত